জাতিসংঘের শরণার্থী পুনর্বাসন স্থগিত করল জার্মানি

German

নতুন করে জাতিসংঘের শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আর কোনো শরণার্থীকে আপাতত গ্রহণ করতে রাজি নয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে অভিবাসন ছিল দেশটির রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জার্মানিতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি সহিংস হামলার সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের নাম উঠে আসে। এর জের ধরে ভোটের মাঠে ভালো ফল করেছে অভিবাসনবিরোধী কট্টর-ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। ভোটের হিসাবে তাদের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

আরও পড়ুন

ভোটের পরেও অভিবাসন এখনো সমানভাবে আলোচিত জার্মানিতে। অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে গেলো বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিবেশী নয়টি দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করে জার্মানি। এ বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই নিয়ন্ত্রণ জারি রাখার কথা। অবশ্য সিডিইউ/সিএসইউ চায়, অপক্ষাকৃত নিরাপদ দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জার্মানির সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দিতে। এ নিয়েও বিতর্ক চলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসাবে এ বছর ছয় হাজার ৫৬০ জন শরণার্থীকে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। এর আওতায় সাধারণত মিসর, জর্ডান, কেনিয়া, লেবানন, পাকিস্তান এবং লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শরণার্থী বা রাষ্ট্রহীন মানুষদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

আশ্রয় আবেদনের হিসাবে জার্মানি এখন আর ইইউ’র শীর্ষ দেশ নয়। বেশ কয়েক বছর পর এবার জার্মানিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেছে ফ্রান্স ও স্পেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি গোপন নথির বরাত দিয়ে ৭ এপ্রিল এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান দৈনিক ভেল্ট আম জনটাগ।

এতে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ফ্রান্স এবং স্পেনে আশ্রয় চেয়ে বেশি আবেদন জমা হয়েছে। গত বছরেও আশ্রয় আবেদনের হিসাবে শীর্ষে ছিল জার্মানি। ২০২৪ সালে দুই লাখ ৫০ হাজার ৬১৫টি আশ্রয় আবেদন জমা পড়েছিল দেশটিতে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে জমা হয়েছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৫টি আবেদন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইটালিতে জমা হয়েছিল এক লাখ ৫৮ হাজার ৬০৫টি আবেদন।