ওমান বৈঠকে কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র?

Iran

চোখরাঙানি, কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর বারংবার যুদ্ধের হুমকি দিয়েও তেহরানকে হারাতে পারছে না আমেরিকা। ওমানে দুই দেশের সাম্প্রতিক বৈঠকের জেরে কোন দিকে গড়াবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। সর্বোচ্চ চাপ অর্থনৈতিক অবরোধের মত নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইরান যে শুধু টীকে আছে এমন নয়। বরং দেশটি এখন আত্মপ্রকাশ করেছে পরমাণু প্রযুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের এক অনন্য শক্তি হিসেবে।

তবে এবার ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা বৈঠক ‘ইতিবাচক’ ও ‘গঠনমূলক’ হয়েছে বলে জানিয়েছে দুই পক্ষই। ২০১৮ সালের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। শনিবারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষই আবার আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের প্রথম এই বৈঠক শান্ত ও ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সম্ভবত আগামী শনিবার” আবার বৈঠক হবে। আরাকচি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে একটি চুক্তি চায়।

ওমানের অনুষ্ঠিত আড়াইঘণ্টার বৈঠকে আরাগচি ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে আলোচনার নেতৃত্ব দেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। বিবিসি জানায়, দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলাদা আলাদা কক্ষে বসে আলোচনা হয়েছে। দুই প্রতিনিধি দলের কাছে একে অপরের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদি।

যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই ওমানে ইরানের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনা চেয়ে আসছিল। তবে ইরান বরাবরই পরোক্ষো আলোচনার পক্ষে ছিল। বৈঠক শুরুর আগে প্রাথমিকভাবে আরাগচি এবং উইটকফ কেবল কয়েক মিনিট ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদরের উপস্থিতিতে সরাসরি কথা বলেছিলেন। পরে বৈঠকটি আলাদা কক্ষে বসে হয়।

ইরানের কট্টরপন্থিদের চাপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক এড়িয়ে গেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি। এমনকি বৈঠকের কোনও ছবিও তোলা হয়নি। বৈঠকের পর হোয়াইট হাউজ আরাগচির সঙ্গে উইটকফ এবং ওমানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বৈঠককে খুবই ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছে।