বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোনার খনি আছে যে মুসলিম দেশে

খনি

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সোনার খনি একটি প্রধান শিল্প উৎস হিসেবে সমৃদ্ধ হয়েছে। কিছু অঞ্চলে বিশাল সোনার মজুদ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরকমই একটি সোনার খনি ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সাধারণত গ্রাসবার্গ নামে পরিচিত, এই খনিটি বিশ্বের বৃহত্তম এবং সমৃদ্ধ সোনার খনি। এই খনি থেকে বছরে প্রায় ৪৮ টন সোনা উত্তোলন করা হয়ে থাকে।

গ্রাসবার্গ খনি থেকে উত্তোলিত আকরিকে প্রচুর পরিমাণে সোনা এবং তামা উভয়ই রয়েছে। পুনকাক জায়ার কাছে অবস্থিত, গ্রাসবার্গ খনি পাপুয়ার সর্বোচ্চ পার্বত্ত এলাকা। এই সমগ্র অঞ্চলটি টেকটোনিক প্লেটের স্থানান্তরের কারণে তৈরি হয়েছিল এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। এই খনি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সোনা উত্তোলন হলেও এর উপরের অংশের একটি বৃহৎ অংশ বর্তমানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গ্রাসবার্গ খনিতে প্রায় ২০ বাজার লোক কাজ করে। খনিটির নিজস্ব বিমানবন্দর এবং বন্দর রয়েছে। এতে কর্মীদের জন্য আবাসিক কমপ্লেক্স, স্কুল এবং হাসপাতালও রয়েছে। আগে, এই খনির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল- এক মাইল প্রশস্ত খোলা অংশ। তবে, ভূপৃষ্ঠের মজুদ অনেকাংশে হ্রাস পাওয়ায় এখন ভূগর্ভস্থ উৎপাদন চলছে।

ডাচ ভূতাত্ত্বিক জিন জ্যাক ডোজি ১৯৩৬ সালে ওই অঞ্চলে খনিজ সম্পদের সম্ভার আবিষ্কার করেন। তবে, ১৯৬০-এর দশকে ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরান এই অঞ্চলে খনির অধিকার অর্জন করলে বৃহৎ আকারের খনির কাজ শুরু হয়। তারপর থেকে, গ্রাসবার্গের ক্রমাগত সম্প্রসারণ হয়েছে। বহু বছর ধরে, এই খনি ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলির মধ্যে একটি।