হরমুজ প্রণালি নিয়ে বাংলাদেশে হটাৎ দুশ্চিন্তা কেন? 

Iiran

মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশের সাধারণ জীবনযাত্রার উপরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই এই হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। এমনটি ঘটলে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাংলাদেশের এলএনজি ও তেল আমদানি ব্যাহত হবে। যার ফলে বিদ্যুৎ, শিল্প, পরিবহন এবং সাধারণ জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়বে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়বে, বাড়বে পণ্যের মূল্য। আর এর চূড়ান্ত বোঝা পড়বে সাধারণ মানুষের কাঁধে।

হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবাহ পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ সমুদ্র পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ইরান ও ওমানের মধ্যকার এ প্রণালীর সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার চওড়া। এর সংকীর্ণতা ও অবস্থানের কারণে এটি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার চরম কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এ রুট দিয়ে তাদের তেল রপ্তানি করে থাকে। তাই এ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেবে।

বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রধান উৎস হিসেবে কাতার ও ওমান অন্যতম। পেট্রোবাংলার তথ্য মতে, কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৫ বছরের ও ওমানের সঙ্গে ১০ বছরের এলএনজি আমদানির চুক্তি রয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং বাংলাদেশসহ অনেক আমদানিনির্ভর দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেবে।