সাপ্লাই কোম্পানির ফাঁদে নিঃস্ব সৌদিগামী কর্মীরা

কর্মী

সাপ্লাই কোম্পানির ফাঁদ থেকে বের হতে পারছেন না সৌদিগামী প্রবাসী শ্রমিকরা। অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে দেশটিতে গেলেও পাচ্ছেন না প্রতিশ্রুত কাজ। অনেকে ছোটখাটো কাজ পেলেও ঠিকমতো বেতন বা মজুরি পান না। নিম্নমানের বাসস্থান থেকে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। ফলে গত কয়েকমাসে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরার প্রবণতা বেড়েছে।

বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে শুধু সৌদি আরবে গেছেন দুই লাখ ৩০ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক। অথচ একই সময় কাতারে গেছেন ২৯ হাজার ৩৯১ জন, কুয়েত আট হাজার ৮২৭ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক হাজার ৭৬২ জন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবের শ্রমবাজার স্থিতিশীল হলেও অস্থিতিশীলতা এখানে বেশি, ভোগান্তিও চরমে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের তথ্যমতে, গত ১০ বছর বিভিন্ন দেশে অবৈধ হয়ে আউটপাস নিয়ে ছয় লাখ ৭৩ হাজার ৫৭০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। বৈধ পথে বিদেশ গিয়ে অবৈধ হয়ে ফিরে আসাদের এ সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ সাপ্লাই কোম্পানি ও ফ্রি ভিসায় গিয়ে অবৈধ হয়ে দেশে ফেরত আসছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৮৮ হাজার ৮৬৮ জন বৈধ অভিবাসী শ্রমিক অবৈধ হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এবিষয়ে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লোকজন বলছেন, অসাধু লোকদের কারসাজিতে এমন হচ্ছে। পাশাপাশি বিএমইটিও দায়ী। আমাদের দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলো বিদেশে কোম্পানিরগুলোর ভিসা যাচাই-বাছাই না করেই কাজের অনুমতি দেয়। এখানেই প্রতারকরা সুযোগ নেয়।